বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে "জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি"র(NPP) বিবৃতি



বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে "জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি"র(NPP) বিবৃতি

নিউজ ডেস্ক

দৈনিক বঙ্গ দর্পন

সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে জাতীয় প্রগতিশীল পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃমোশারফ হোসেন রুবেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিবৃতি প্রকাশ করেন।

তিনি তার বিবৃতিতে বলেন,দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মানবতাহীন,অযৌক্তিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগনের জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিকতা হারিয়ে যন্ত্রণার চরম পর্যায়ে দাড় করিয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এর পর থেকে প্রতিদিন কোন না কোন অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন শুধু যে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে তা নয়,দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আন্দোলন এর নামে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল উপদেষ্টা এবং দেশের প্রশাসনিক শাসন ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

২৪ এর গনঅভ্যুত্থানে হয়তো একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গনতন্ত্রকে পুনরায় বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখেছে বাঙালী জাতী কিন্তু প্রাপ্তির নেশায় উন্মাদ হয়ে দেশের সার্বিক  অবকাঠামোকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।

অন্ন,বস্ত্র,চিকিৎসা, শিক্ষা বাসস্থান সহ সকল মৌলিক অধিকার থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে একশ্রেণীর মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থকে রাজনৈতিক স্বার্থ সাজিয়ে দেশের প্রতিটি উপজেলা,জেলা,বিভাগ সহ বাংলার মানচিত্রের সম্পূর্ণ অংশে অন্যায়ের একনায়কতন্ত্রের নতুন বীজ বপন করতে শুরু করেছে।আমরা আমাদের সার্বোভৌমত্বের অবশিষ্টটুকুও হারীয়ে ফেলতে বসেছি।

অন্যায়,অবিচার,নৈরাজ্যতা,হিংস্রতা সহ এমন কোন নেতিবাচক পরিস্থিতি বাকি নেই এই বাংলাদেশ এর দৈনন্দিন আন্দোলন এর নামে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে।

যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছেন তারাই তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে প্রহসন করছেন।রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া পাওয়ার যেন শেষ নেই!

"যমুনা" ঘেরাও যেন ঐতিহ্যে পরিনত হয়েছে!


কারো প্রতি কারো সহানুভূতি নেই,সকলেই প্রতিহিংসার সর্বোচ্চ যায়গায় অবস্থান করছে!

এমনটা চলতে থাকলে অচিরেই পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বাংলাদেশ এর ভূ-খণ্ড নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোঃ ইউনুস স্যার আপনাকে বলছি,,

"আপনার কাছে বাঙালী জাতীর অনেক প্রত্যাশা,আপনি যদি দেশের সর্বোচ্চ অবস্থানে থেকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যার্থ হন তাহলে এই ব্যর্থতা শুধু আপনার নয় এই আঠারো কোটি বাঙালির।"

আপনিতো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে ব্যার্থতার গ্লানি বয়ে বেড়ানো মানুষ নন।আপনাকে ঘিরেই এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এর স্বপ্ন দেখা।আপনি সহ আপনার সকল উপদেষ্টাদের বলছি আপনারা নির্ভয়ে দেশকে পরিচালনা করুন।দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে,জনমনে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনুন তারপর "জাতীয় সংসদ নির্বাচন" এর মত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহন করুন।আপনারা একা নন এদেশের সর্বস্তরের জনগণ আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ। 

জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি(NPP) সার্বোভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা ঐক্যবদ্ধ।আমরা "পদত্যাগ চাইনা চাই উন্নয়ন এর পদক্ষেপ"।

মোঃমোশারফ হোসেন রুবেল তার বিবৃতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন,,


"আমরা বিগত দিনে দেখেছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী  বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড রক্ষায় প্রত্যক্ষভাবে দায়িত্ব পালন এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ নিরসনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে সগৌরবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়নে সুনাম অর্জন করেছে।তাহলে নিজের দেশের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কেন তারা পেশাদারিত্বের যায়গায় নিস্ক্রিয় অবস্থানে থাকবে?

জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি(NPP) মনে করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে তাদের অবস্থান থেকে সক্রিয় ও স্বাধীনভাবে দেশের চলমান নৈরাজ্যতা,ধ্বংসাত্বক রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং সকল অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা প্রতিটি জনগনের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি-র(NPP) কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃমোশারফ হোসেন রুবেল সমগ্র বাংলাদেশ এর স্বাধীনতাকামী সকল  জনগনের পক্ষে বর্তমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জনাব,ওয়াকার-উজ-জামান এর উদ্দেশ্যে বলেন-


""স্যার,আমরা বাঙালি জাতী আজ অসহায়,আমরা আর অন্যায়ের একনায়কতন্ত্রের কুন্ঠিত প্রজা হয়ে থাকতে চাইনা,আমরা বিশ্ব মানচিত্রে সম্মানের যায়গায় অবস্থান করতে চাই,দেশের আভ্যন্তরিন চলমান প্রতিটি অপরাধ দমনে এবং সকল অপরাধের সাথে যুক্ত প্রতিটি অপরাধী চিহ্নিত পূর্বক তাদের কঠোর হস্তে দমন করুন।আমরা আজ বাকরুদ্ধ!

আপনারা ৭১ থেকে শুরু করে যেভাবে দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে নিরলসভাবে দেশকে রক্ষা করেছেন আরো একবার আমাদের শান্তি ফিরিয়ে দিন।আমরা মাথা উচু করে বাঁচতে চাই।২৪ এর গনঅভ্যুত্থানে সাধারণত জনগনের মাঝে সংবিধান ও প্রচলিত প্রশাসনিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।জনগণের মাঝে আইনের প্রতি আস্থা  ফিরিয়ে আনুন তারপর সকল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংসদ নির্বাচন এর বিষয়ে উদ্যোগ নিন নয়তো দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না।"


মোঃমোশারফ হোসেন রুবেল পরিশেষে তার বিবৃতিতে জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন,,আপনারা আপনাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংবিধান এর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখুন,দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশের আইন প্রণয়নকারী,আইন বাস্তবায়নকারী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অপরাধ দমনে সহযোগিতা করুন দেখবেন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশের প্রতিটি যায়গায় শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করবে।



Comments

Popular posts from this blog

"সমাজ বদলায় না, বদলায় সমাজের মুখোশ।"

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরো একটি নতুন রাজনৈতিক দল এর আত্মপ্রকাশ।