নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গৃহবধূর উপর পাশবিক নির্যাতন আদালতে মামলা দয়ের।

 

মোঃমোশারফ হোসেন রুবেল

ক্রাইম রিপোর্টার

দৈনিক বঙ্গ দর্পন

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল গ্রামের মৃত মোঃশহিদুল ইসলামের কন্যা মুক্তা আক্তার কেয়ার-(২০) সাথে একই গ্রামের আঃরহমান শিকদারের পুত্র আবুল কালাম আজাদের -(২৫)দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর গত-২৯/০১/২০১৯ ইং তারিখে ইসলামী শরাশরিয়ত মোতাবেক ৩,০০০০০/-(তিন লক্ষ)  টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা ওয়াসিল দিয়ে রেজিষ্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়।কিন্ত আবুল কালাম আজাদের পিতা,মাতা সহ আজাদের পরিবারের কেউ এই বিয়ে মেনে নিতে রাজি হয়নি।অতঃপর উভয় পরিবারের মধ্যস্থতায় মুক্তা আক্তার কেয়ার পিতা বিয়ের পর মেয়ের সাংসারিক সুখের আশায় নগদ ২,০০০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা কিছু আসবাবপত্র ও স্বর্নলংকার দিলে ছেলের বউকে ঘরে তুলে নেয় আজাদের পিতা,মাতা সহ সকলেই।কিছুদিন স্বাভাবিক ভাবেই চলছিলো মুক্তা আর আজাদের সংসার।জন্ম হয় তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান নূহা আক্তারের ।হঠাৎ আজাদের আচরন দিনে দিনে পরিবর্তন হতে থাকে।মুক্তার প্রতি অবজ্ঞা,অবহেলা, অনিহা প্রদর্শন পুর্বক কুরুচিপূর্ণ গালমন্দ করতে থাকে এবং সংসারের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পরে।স্বামীকে এরূপ উদাসীনতা ও নিষ্ঠুরতার জীবন থেকে ফিরে আসার পরামর্শ,অনুরোধ করতে  গেলে আজাদ মুক্তার কাছে ৫,০০০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা দাবি করে। মুক্তা আজাদের এরূপ অযুক্তিক দাবি পুরনে অস্বিকৃতি জানালে টাকা দবী করে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে,প্রায়ই বাহিরে রাত্রি যাপন করে,দিনের বেলা বাড়িতে এসে উল্টো সিধে কিছু না বলেই মার-পিট শুরু করে দেয়।তবুও সুখের আশায় আজাদের এরূপ রুক্ষ, নিষ্ঠুর,নির্মম অত্যাচারের মাঝেও দিনযাপন করে আসছিলো মুক্তা।

গত ১৭/০৯/২০২১ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকার সময় সাংসারিক কাজ করার সময় শশুর আঃরহমান শিকদার এবং শাশুড়ী নাজমা বেগমের(৪৫) প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় আজাদ মুক্তার কাছে  পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করলে মুক্তা টাকা দিতে অপারগতা করে।সাথে সাথে শশুর, শাশুড়ী, স্বামী মিলে কিল,ঘুষি,লাথি এবং বাশের লাঠি দিয়ে পাশবিক নির্যাতন করে ১৪ মাস বয়সী কন্যা সন্তান নূহা আাক্তারকে সহ মুক্তাকে বাড়ি থেকে জোর করে বের করে দেয়।একমাত্র সন্তানের এরূপ করুন নির্মম পরিনতি সইতে না পেরে মুক্তার বাবা মানুশিক ভাবে ভেঙে পড়ে এবং কয়েক দিন পারেই মৃত্যুবরন করেন।

পরবর্তীতে স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চাইলে আজাদ স্ত্রী ও সন্তানকে গ্রহণ করবেনা বলে জানিয়ে দেয়। অতঃপর নিরুপায় হয়ে অসহায় মুক্তা গত ০৫/১০/২০২১ ইং তারিখে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত গাজীপুরে স্বামী,শশুর এবং শাশুড়ী ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীনির পক্ষের আইনজীবী  এডভোকেট হাফিজুর রহমান জানান স্বামী,শশুর এবং শাশুড়ী কতৃক নির্মম নির্যাতনের শিকার গৃহবধু মুক্তা আক্তার এবং শিশু সন্তান নূহার অধিকার আদায় এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির জন্য বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছি এবং আদালত আমাদের মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সঙ্গে বিবেচনা করে গ্রহন করে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

বর্তমানে মুক্তা তার শিশু সন্তান  নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে।

Comments

Popular posts from this blog

"সমাজ বদলায় না, বদলায় সমাজের মুখোশ।"

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরো একটি নতুন রাজনৈতিক দল এর আত্মপ্রকাশ।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে "জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি"র(NPP) বিবৃতি