সিরাজদিখানে অবৈধ ভাবে সরকারি খাদ্য গোডাউন দখল করে চলছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

 



ওসমান গনি 

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

দৈনিক বঙ্গ দর্পন

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার তালতলা বাজারে লীজের নামে প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি খাদ্য গোডাউন দখল করে কাঠের গোডাউন এবং ডেকোরেটরের ব্যবসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তালতলা বাজারে থাকা সরকারি খাদ্য গোডাউনটি ২০০১ সালে এক বছরের জন্য লীজ নেন কাজীরবাগ গ্রামের খলিল কাজী। 


বাৎসরিক সরকারকে ৪০ হাজার টাকার টাকা দিয়ে প্রতিবছর নয়ায়ন করার কথা থাকলেও প্রায় ২০ বছর ধরে লীজ নবায়ন না করে গোডাউনটি দখলে রেখে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।  প্রতি বছর সরকার নির্ধারিত ৪০ হাজার টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন দখলদাররা। স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলার কারনে প্রায় ২০ বছর ধরে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। 


জানাগেছে, তালতলা বাজারের লঞ্চ ঘাট এলাকায় ফুরশাইল মৌজার এস,এ ২২৩৯ আর,এস ১৭৪৭ দাগের ১২ শতাংশ জমিতে সরকারি নির্মাণকৃত গোডাউনটি ২০০১ সালে এক বছরে জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে লিজ নেয় মালখানগর ইউনিয়নের কাজীরবাগ গ্রামের খলিল কাজী। প্রতি বছর ৪০ হাজার টাকা সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দিয়ে নতুন করে নবায়ন করার কথা থাকলেও তিনি নবায়ন করেননি বেশ কয়েক বছর। নবায়ন না করায় ২০০১ সালে উপজেলা প্রশাসন খলিল কাজীর লীজ বাতিল করে দেন। এরপরও  সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গোডাউনটি দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বিগত বছরগুলোতে সরকার প্রায় ৮ লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে টিন সিট গোডাউনটির একপাশে কাঠের দোকান, আরেক পাশে ডেকোরটর ব্যবসা করছেন খলিল কাজীর ছেলে হুমায়ুন কাজী।   সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তালতলা বাজারের নদীর তীরে বিশাল গোডাউনটির ভিতরে এখন কাঠের গোডাউন। গোডাউনটির পশ্চিম পাশের অংশে ডেকোরেটরের দোকান । এছাড়াও গোডাউনটির চারপাশে কাঠের ভাসমান দোকানও রয়েছে। এসময় বাজারে থাকা একাধিক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,বিশাল গোডাউনটি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সরকার থেকে লীজ নেয়ার পর সরকার নির্ধারিত রাজস্বের টাকা পরিশোধ না করায় সরকার লীজ বাতিল করে দেয়। কিন্তু প্রায় ২০ বছর ধরে গোডাউনটি দখলে রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা অনেকে।   


সরকারি গোডাউন দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ূন কাজী বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে সরকারি এই গোডাউনটি আমার পিতা বাৎসরিক ৪০ হাজার টাকায় লীজ নিয়েছিলো। প্রতি বছর ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে নবায়ন করেই ব্যবসা করেছি। ২০০১ সালে হঠাৎ উপজেলা প্রশাসন আমাদের লীজ বাতিল করে অন্য আরেক জনকে লীজ দিয়ে দেয়। এরপর আমরা আদালতে আপীল করেছি। সেই থেকে বছরে যে, ৪০ হাজার টাকা সরকারকে দেয়ার কথা সেটা আমরা পরিশোধ করছিনা। সরকারি টাকা আমরা পরিশোধ করে দিবো। এতো বছর ধরে বে’আইনীভাবে দখলে রেখেছেন কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, সরকার পূনরায় আমাদের লীজ দিবে এই আশায় দখল ছাড়ি নাই। সরকার যদি আমাদের উচ্ছেদ করে তাহলে করবে, কিন্তু নিজেদের ইচ্ছায় আমরা এখান থেকে সরে যাবো না। 


সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম এবিষয়ে জানান, গত মাসিক মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে এটার মালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট করে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান জানান, স্থানীয় ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্তে করে প্রতিবেন আকারে জমা দেয়ার নিদেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 


এই বিষয়ে মালখানগর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, গোডাউনের জায়গাটি সরকারি খাস খতিয়ানের সম্পত্তি, দখলাদার হুমায়ুন কাজীকে আগামী বৃহস্পতিবার এর মধ্যে তার কাগজ পত্র নিয়ে দেখা করতে বলেছে। কাগজ পত্র দেখে বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার স্যারের সাথে আলাপ করবো এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Comments

Popular posts from this blog

"সমাজ বদলায় না, বদলায় সমাজের মুখোশ।"

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরো একটি নতুন রাজনৈতিক দল এর আত্মপ্রকাশ।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে "জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি"র(NPP) বিবৃতি