দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কালাপুকুর(পুকুর পার)এ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সন্ত্রাসী কায়দায় মারামারি।

 




নিউজ ডেস্ক

দৈনিক বঙ্গ দর্পন 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কালাপুকুর(পুকুর পার)এ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সন্ত্রাসী কায়দায় মারামারি।

 গত ২২ এ জানুয়ারী আনুমানিক দুপুর ১২:৩০ মিনিটে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কালাপুকুর(পুকুর পার)এ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সন্ত্রাসী কায়দায় মারামারির ঘটনা সংঘটিত হয়।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়,মোঃফজলুর রহমান এর সাথে প্রতিবেশী ইয়াকুব আলী,আশরাফ আলী,চায়না মন্ডল(৪০),জমিরন বেগম(৪৭) এর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ বাড়ির সামনের সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তায় যাতায়াত নিয়ে দন্দ চলছিলো।এর জের ধরেই ইয়াকুব আলীর পূত্র মিজানুর রহমান(২২),মিষ্টার আলী(২৬) এবং আশরাফ আলীর পূত্র অলিম(২৩) পর্যায়ক্রমে গত ২০ এবং ২১ শে জানুয়ারী ফজলুর রহমান এর পূত্র মোঃ হযরত আলী(১৭) এবং মোঃতছলিম উদ্দিন(৩৫) কে রাস্তা অবরুদ্ধ করে বাড়ির সামনের সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে নিষেধ করে,অন্যথায় মেরে হাত,পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেয়।

পরদিন ২২ এ জানুয়ারী হযরত আলী এবং তছলিম উদ্দিন নীজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তায় গেলে মারামারির পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী ইয়াকুব আলীর পূত্র মিজানুর রহমান(২২)এর নেতৃত্বে আশরাফ আলীর পূত্র অলিম(২৩),মান্নান আলীর পূত্র বেলাল হুসেন(২৪),মৃত আঃখালেক এর পূত্র জাকারিয়া(১৯) এবং মিষ্টার আলী প্রত্যেকের হাতে রাখা  বাশ ও কাঠের লাঠির দিয়ে  আকস্মিক এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে।আহত হযরত আলী এবং তছলিম উদ্দিন মাটিতে পড়ে চিৎকার করতে শুরু করলে তাদের মা মোছাম্মত আনোয়ারা (৫০) দৌড়ে ঘটনাস্থলে আসলে মান্নানের স্ত্রী জমিরন(৪৭) এবং আশরাফ এর স্ত্রী চায়না মন্ডল((৪০) উভয়ে আনোয়ারকে মটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কিল,ঘুসি,লাথি মারতে শুরু করে।


পরবর্তীতে এলাকাবাসীর অনেকই ঘটনাস্থলে আসলে  মিজানুর রহমান   তার সন্ত্রাসী বাহিনি নিয়ে পালিয়ে যায়।

অতঃপর স্থানীয় লোকজন এর সহযোগিতায় গুরুতর আহত হযরত আলী,তছলিম উদ্দিন সহ,মোছাম্মত আনোয়ারাকে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান,হযরত আলীর চোখের আঘাতটা মারাত্মক,তছলিম উদ্দিন এর মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছে আর আনোয়ারা বেগম এর শরীরের বিভিন্ন যায়গায় জখম হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী জানান,পূর্বেও এই সন্ত্রাসী বাহিনী ফজলুর রহমান এর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদেরকে মারধর করেছে।স্থানীয় ভাবে বিচার দিয়েও কোন সমাধান পায়নি।

প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাৎ এর সময় আহত হয়রত আলী এবং তছলিম উদ্দিন জানান,আমরা খেটে খাওয়া মানুষ,বলতে গেলে একেবারে নিঃস্ব তবুও এই অত্যাচার  দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।আমরা অনেকবার স্থানীয় প্রশাসনএর কাছে গিয়েও ন্যায় বিচার পাইনি।যেহেতু আমরা শ্রমিক এবং আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে ন্যায় বিচারের গনতান্ত্রিক অধিকার হতেও বাঞ্ছিত।

এ ঘটনায় মামলা করা হবে কি না জানতে চাইলে ভুক্তভোগী জানান,আমি এবং আমার ভাই দিনাজপুর জেলা কমিটির বাংলাদেশ রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সদস্য তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার সংগঠন এর সভাপতি বরাবর একটা লিখিত দরখাস্ত দিয়েছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি মোঃশওকত আলী এবং সেক্রেটারি মোঃহাসান আহামেদ এর সাথে কথা  বলতে গেলে তারা উভয়েই জানান আমরা দরখাস্ত পেয়েছি এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য দেশের প্রচলিত আইন  অনুযায়ী আইনি ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

প্রতিবেদন তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত থানায় কোন প্রকার অভিযোগ দাখিল হয়নি।


Comments

Popular posts from this blog

"সমাজ বদলায় না, বদলায় সমাজের মুখোশ।"

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরো একটি নতুন রাজনৈতিক দল এর আত্মপ্রকাশ।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে "জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি"র(NPP) বিবৃতি