দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ ও মুক্তিপন আদায়।

 


নিউজ ডেস্ক(অপরাধ বিভাগ)

দৈনিক বঙ্গ দর্পন

প্রধান কার্যালয়

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ ও মুক্তিপন আদায়।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮/০৩/২০২৪ খ্রীঃ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত বীরগঞ্জ থানার কৈকুড়ী নামক স্থানে আনুমানিক সন্ধা ৭:৩০ মিনিটের দিকে অতর্কিত অপহরণের পর মুক্তিপন আদায় এর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

ঘটনা সম্পর্কিত আলাপ চারিতায় ভুক্তভোগী মোঃবিল্লাল হোসেন (২১) জানান।তার শশুর বাড়ী বীরগঞ্জ উপজেলার ১১ নং মরিচা ইউনিয়ন এর ডাবরা জিনেশ্বরী(মাষ্টার মোড়) এ।

গত ১৬/০৩/২০২৪ খ্রীঃ শশুরের অসুস্থতার খবর পেয়ে,দেখতে আসেন বিল্লাল হোসেন।দু দিন শশুর বাড়ীতে অবস্থান এর পর গত ১৮/০৩/২০২৪ খ্রীঃবর্তমান ঠিকানা গাজীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে সস্ত্রীক লিজা আক্তার(১৮) এবং বিল্লাল হোসেন গোলাপগঞ্জ নামক স্থানে বীরগঞ্জ যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় উঠে।অটোরিকশা চলমান থাকা অবস্থায় কৈকুড়ী নামক স্থানে পৌছানোর সাথে অপরিচিত কয়েকজন ব্যাক্তি অটোরিকশার গতিরোধ করে ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী লিজা আক্তারকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নিয়ে কৈকুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এক ভুট্টা খেত এর নির্জন যায়গায় নিয়ে যায়।দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুক্তিপন আদায়ের জন্য চালায় অমানুষিক নির্যাতন।

অপহরনকারীরা মোঃ বিল্লাল হোসেন এর সাথে থাকা নগত ২০,০০০/- টাকা নিয়েও খ্যান্ত হননি,পরবর্তীতে অরো ১,০০০০০/-এক লক্ষ টাকা দাবী করেন অপহরণকারীরা।সে সময় নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী মোঃ বিল্লাল হোসেন অপহরণকারীদের নির্যাতন সইতে না পেরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিকাশ এ আরো মোট ৯০,০০০/- টাকা ব্যাবস্থা করে দেন।

পরবর্তীতে স্বার্থ হাসিলের পর অপহরনকারীরা লিজা আক্তার ও বিল্লাল হোসেনকে কারো কাছে এ বিষয়ে মুখ খুললে হত্যার হুমকি দিয়ে সোজা ঢাকায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।প্রশাসনকে এ বিষয়ে কিছু বললে কিংবা মামলা করলে ভবিষ্যতে এর চেয়েও ভয়ংকর কিছু হবে বলে ভয় দেখিয়ে অপহরনকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে এরূপ অপৃতিকর, অতর্কিত দূর্ঘটনা থেকে মুক্তি পেয়ে বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে ভুক্তভোগী মোঃবিল্লাল হোসেন ও লিজা আক্তার গাজীপুর চলে যায়।

পেশায় মোঃবিল্লাল হোসেন একজন গার্মেন্টস জুট ব্যাবসায়ী।ব্যাবসায়ীক সূত্রেই গাজীপুর এর হরিনার চালায় থাকা হয় পরিবারের অন্যান্ন সদস্যদের সাথে।

মোঃবিল্লাল হোসেন পাবনা জেলার,বেড়া থানার হাটুরিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র।

এই ঘটনার বিষয়টি পরের দিন ১৯/০৩/২০২৪ খ্রীঃ বীরগঞ্জের শশুর বাড়ীর লোকজনদের জানালে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অপহরনকারীদের দেয়া বিকাশ এর ক্যাশ উত্তোলন নাম্বার সহ অপহরনকারীদের বিভিন্ন তথ্য উৎঘাটনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

এ বিষয়ে কোন মামলা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ভুক্তভোগী মোঃবিল্লাল হোসেন জানান অপাতত কোন মামলা করা হয়নি,তবে যেহেতু অপহরনকারীরা দিনাজপুরে তাই নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে হয়তো গাজীপুর মহানগর এর প্রশাসনের নজরে দিবো কারন আমার বর্তমান ঠিকানা গাজীপুর।কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে মোঃবিল্লাল হোসেন জানান,সন্দেহের তালিকায় ১ নম্বারে রয়েছে তার নিজের ভায়রা,সৌরভ বেপারী(৩৯)।

সৌরভ বেপারী পাবনা জেলার বেড়া থানার অন্তর্গত বড় পায়না গ্রামের উদ্ভট ছেলে।

আত্ত্বীয়তার সূত্র ধরে মাঝে মাঝে বিভিন্ন সময় সৌরভ বেপারী মোঃবিল্লাল হোসেন এর কাছ থেকে অর্থকেন্দ্রীক সুযোগ সুবিধা নিয়ে আসছিলো।সম্প্রতি সৌরভ বেপারী মোঃবিল্লাল হোসেন এর কাছে ২০,০০০/-টাকা ধার চায়।

ব্যাবসায়ীক পরিস্থিতি ভালো না থাকায় আর পূর্বের পাওনা টাকাগুলো পরিশধ না করায় মোঃবিল্লাল হোসেন টাকা দিতে অপারগতা জানায়।

এ সময় সৌরভ বেপারী রেগে গিয়ে মোঃবিল্লাল হোসেনকে পরে দেখে নেয়ার কথা বলে হুমকি দেন।

অপহরণের ঘটনার পর দিন সৌরভ বেপারী মোঃবিল্লাল হোসেন,সম্পর্কে স্ত্রীর ছোট ভাই মানুন ইসলাম এবং স্ত্রীর বড় বোন নুরজাহানকে মোবাইলে অপহরণ করে মুক্তিপন এর কথাটা স্বীকার করে বলেন,""দেখলি ২০,০০০/- টাকা চাইলাম দিলি না। কিন্তু ঠিকই আমি কৌশলে লোক ভাড়া করে ১,২০,০০০/-টাকা আদায় করে নিলাম""!

সৌরভ বেপারীর বিষয়ে তথ্য নিয়ে যানা যায় সে পাবনা জেলায় বিভিন্ন অপকর্মের সাথ জড়িত এবং সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলারও সন্দেহভাজন আসামী।

ভুক্তভোগী মোঃবিল্লাল হোসেন জানান,গাজীপুর এর কয়েকজন আইনজীবীর সাথে কথা বলা হয়েছে এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।তিনি আরো বলেন আমরা যদি এভাবেই সমাজের সকল অপকর্মকে শিকার করে মাথা নত করে থাকি তাহলে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটতেই থাকবে।তাই আমি চাই প্রকৃত আসামীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার এর স্বার্থে লড়াই করতে।

চাঞ্চল্যকর এই অপহরণ ও মুক্তিপন আদায় এর ঘটনায় অপহরনকারীরা যে বিকাশ নম্বার এ টাকা উত্তোলন করেছে তার নাম্বার-০১৭৮৯৩৩২১৮১(এজেন্ট)

অপহরণের মুক্তিপনের টাকাগুলো যে নাম্বারগুলো থেকে পাঠানো হয় তার নাম্বাগুলো-

(১)০১৮৩০৭৩৮০৬৪ থেকে-২১,০০০/টাকা।

(২)০১৩৩০৯৭৬০৮০ থেকে-১০,০০০/-টাকা।

(৩)০১৭৭৬৬৪৪৮০৭ থেকে-১৫,০০০/-টাকা।

(৪)০১৭৯৯৩৫১৩৩৭ থেকে-২১,০০০/-টাকা।

(৫)০১৭৮৬৬২৮৮০২ থেকে-৫০০০/-টাকা।এবং

(৬)০১৭৯২৯৩০৩০৯ থেকে-১৫,০০০/- টাকা।মোট-বিকাশ এ ৭৫,০০০/-টাকা  সহ নিজের বিকাশ এ থাকা ২০,০০০/-টাকা ও ক্যাশ ২০,০০০/- টাকা বিভিন্ন যায়গা থেকে আনিয়ে,অপহরণকারীদের জিম্মি থেকে উদ্ধার হন মোঃবিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী লিজা আক্তার।

বর্তমানে মোঃবিল্লাল হোসেন মানুষিক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে গাজীপুর এর বাসায় দিন অতিবাহিত করছেন।


Comments

Popular posts from this blog

"সমাজ বদলায় না, বদলায় সমাজের মুখোশ।"

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরো একটি নতুন রাজনৈতিক দল এর আত্মপ্রকাশ।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে "জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি"র(NPP) বিবৃতি