পুলিশের গুলিতে নিহত সুমনের পরিবার শোকে স্তব্ধ



পুলিশের গুলিতে নিহত সুমনের পরিবার শোকে স্তব্ধ


মো. মিজানুর রহমান (মিজান)

চিরিরবন্দর থানা প্রতিনিধি

দৈনিক বঙ্গ দর্পন


পরিবারের সদস্যদের মুখে একটু হাসি ও স্বচ্ছলতার জন্য আশুলিয়ায় কাজের সন্ধ্যানে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দালনকারীদের কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে নিহত সুমন পাটয়ারীর (২০) বাড়িতে চলছে চলছে শোকের মাতম। সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পিতামাতাসহ স্বজনেরা। নিহত সুমনের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৬নং অমরপুর ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামের ২নং ওর্য়াড়ের দক্ষিণপাড়ায় এবং মো. ওমর ফারুকের ছেলে। 


জানা গেছে, পারিবারিক অভাব ও দারিদ্রতার কারণে সুমন চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর স্থানীয় মাদরাসায় পড়াশুনা করে কোরআনের হাফেজ হন। করতেন স্থানীয় মসজিদে ইমামতি। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসারের খরচ নির্বাহ করা দুষ্কর হয়ে পাড়ে। তাই সংসারের স্বচ্ছলতা এবং পিতামাতার মুখে হাসি ফোটাতে বাধ্য হয়ে ছুটে যান ঢাকার আশুলিয়ায়। সেখানে সুমন একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। থাকতো ভাড়া বাড়িতে। গত ৫ আগস্ট বিকাল ৩টায় সুমন কয়েকজন বন্ধু মিলে বাইরে বের হন। ওইদিনই বিকাল ৪টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দালনকারীদের কর্মসূচিতে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে সেখান থেকে সুমনের অন্য বন্ধুরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু সুমন পালাতে পারেনি। পুলিশের ছোঁড়া গুলি সুমনের মাথায় লেগে ঘটনাস্থলেই সে মৃত্যুবরণ করে। গত ৬ আগস্ট সকাল ১১টায় চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের শান্তিরবাজারের লক্ষিপুর গ্রামের বাড়িতে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। পরিবারে একমাত্র উপার্জনেে ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পিতামাতা।


সুমনের পিতা মো. ওমর ফারুক কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, ছেলে আমাদের পরিবারের একটু সুখের আশায় আশুলিয়ায় কাজের সন্ধানে যায়। কিন্তু সেই সুখ আর আমাদের কপালে সইলো না। সে আমাদের মাঝে অ¶ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসল না। এলো তার লাশ। মর্মান্তিক এমন মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।


এদিকে, উপজেলার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র সমন্বয়কেরা উপজেলার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে শহীদ সুমন মিনি স্টেডিয়াম করেছে।

Comments

Popular posts from this blog

"সমাজ বদলায় না, বদলায় সমাজের মুখোশ।"

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরো একটি নতুন রাজনৈতিক দল এর আত্মপ্রকাশ।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে "জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি"র(NPP) বিবৃতি