মায়ের বিয়ের বেনারসি

 



""মায়ের বিয়ের বেনারসি""

এডভোকেট তাসলিমা খান

সাহিত্য লেখিকা

দৈনিক বঙ্গ দর্পন

প্রায় অর্ধশতক আগে আমার মায়ের বিয়ের বেনারসি  কাতান শাড়ীটি ছিলো সুরমা কালারের, যেখানে আজ আধুনিক যুগে এসেও আমরা বিয়ের লাল শাড়ীর বিকল্প খুঁজে পাইনা...! 

শৈশবেই আমার প্রশ্নপিপাসু মনের উত্তর টা জেনেছিলাম মায়ের বাড়ির  আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকেই.

গৌড় বর্ণের মায়ের যেনো নজর না লাগে তাই এই কালার নির্ধারণ,, অথচ আমার মায়ের প্রিয় রং ছিলো লাল... 

নানাজানের অনেক তপস্যার অনেক আদরের একমাত্র মেয়ে ছিলেন মা,

বিয়ের আগে বা পরে মা যেনো কোন রকমের অসুবিধা বা অনাদরের মুখোমুখি হতে না হয় সে জন্য নানাজান মৃত্যুর আগে মাকে তাঁর প্রাপ্য সম্পদের হিস্যা বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন,,এমন নয় যে আমার বাবার ধন সম্পদের কমতি ছিলো, কিংবা শ্বশুর বাড়ি থেকে সম্পদ প্রাপ্তির চাহিদা ছিলো,, আর নানাজানের আরও তিনটি ছেলে সন্তান থাকা সত্বেও নানাজান তাঁর মেয়েকে এতটুকু অবহেলা করেননি এবং কাউকে করার সুযোগ সৃষ্টি করে যাননি,, অবকাশও দেননি...! 

আমার মা তার প্রাপ্ত সম্পদ নিয়ে আত্মসম্মানের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করতেন।আমাদের বাসায় কাজ করার লোকগুলো অধিকাংশ ই নানাবাড়ী থেকে সাপ্লাই হতো,, মায়ের দৈনন্দিন জীবন সহজ করতে নানাজানের কোন কমতি ছিলো না,, 

আমি আমার সারাজীবন মাকে বাবার কাছে হাত পেতে কিছু চাইতে দেখিনি.. বাবা ঈদ পার্বনে উপহার হিসেবে কিছু দিলে খুশি মনে গ্রহন করতেন। এছাড়াও মায়ের নিজস্ব সম্পদের আয় দিয়েই অসংখ্য শাড়ি  কিনতেন,,মায়ের ইন্ডিয়ান শাড়ি কেনার বাতিক ছিলো,, বর্ডার এলাকা কাছাকাছি হওয়ার সুবাদে সহজেই পাওয়া যেতো শাড়িগুলো,,

গোটা দশেক শাড়ি তিনি একসঙ্গেই কিনে ফেলতেন,,

পরে আবার দানও করে দিতেন,,

মায়ের জীবদ্দশায় শেষ সময়টুকু ছাড়া কখনো আমি তাকে তেজ দীপ্ত হীন দেখিনি,,

আজ মাকে নিয়ে লিখার কারন আজ মায়ের মৃত্যুর  দিন,,আমাদের এই নশ্বর জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবার দিন,, সারদিনময় এটাসেটা করে মায়ের স্মৃতি কে তাড়িয়ে বেড়ানোর দিন আজ,,আামার হাতে রান্না করা ডাল সজনে ডাটার চচ্চড়ী,বেগুন শুটকির ঝাল ফ্রাই খাওয়ার তৃপ্ত সুখ আর আমার কেনা পছন্দের শাড়ি পড়ে মুচকি হাসির মুহুর্তগুলো আজ আমাকে পাগলের মতো ধাওয়া করেছে,,মায়ের কিছু ছবি ছাড়া তেমন কোন স্মৃতি চিহ্ন আমার কাছে নেই,, 

যদিও ওয়ারড্রব ভর্তি মায়ের শাড়ী এবং বাস্ক ভর্তি গয়না  রেখে গেলেও আমি এসবের কোন কিছুই স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পাইনি,,বন্টনের সময় কেউ আমার কথা স্মরণও করেনি...!

গেলো জন্মদিনে আমার এক বোনকে বললাম দিতে যদি কিছু চাও তবে তুমি মায়ের ব্যবহৃত একটি শাড়ি আমাকে দিতে পারো,, হু সে দিয়েছিলো এবং সেই শাড়িটাতে তিন বছর আগে গত হওয়া অবিকল আমার মায়ের শরীরের ঘ্রান মিশে ছিলো,, মা কখনো পারফিউম ইউজ করতেন না,,

হিমুর দেয়া নতুন শাড়ির বদলে মায়ের শূন্যতার হাহকার নিয়ে আমি জন্মদিনে সেই শাড়িটিই পড়লাম,, 

ছবি তুললাম, পোস্ট করলাম,, 

আমার শ্বাশুড়ি ভাগ্য নেই, তাঁকেও আমি জীবিত পাইনি তবে আমার জন্য রেখে যাওয়া পঁচিশ বছর পুরনো একটি বালুচরি শাড়ি এক বিয়ের অনুষ্টানে পরে আমি মায়া মায় কিছু একটা অনুভব করেছিলাম,,

সেদিন হিমু সারাক্ষণ আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করেছিলো।

আমি জানিনা আমি সচরাচর অন্যদের থেকে আলাদা কিনা..  কেউ কেউ বলে আমি অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ..!

 সৃজনশীল হতে গেলে আবেগ কমাতে হবে..!

আমি চেষ্টা করে যাই বৃথাই....! 

যখন অনুভব করি কারো অনুপস্থিতিতে তাঁর ব্যবহৃত এক টুকরো কাপড় দেখলে আমার মন যখন তখন বিগলিত হয়ে যায়...  তাই ইদানিং নিজেই নিজেকে প্রমোদ গুনি আসলেই এ আমার বড্ড বাড়াবাড়ি....


আবেগ বিবেক দিয়ে আজকালকার দিন চলে না বরং যে যতো কঠিন কঠোর হতে পারে তাঁর ততোই নামধাম যশ খ্যাতি ঐশ্বর্য....! 

 ঢাকায় বসবাসরত আমার মামনিটাও হয়েছে আমার মতো...আবেগী,,তাই  তার মনটাকে অনেকেই বুঝতে পারেনা,,প্রথম সাক্ষাতেই

বিশাল দুই আলমারী খোলে যখন বলছিলেন তাসলিমা দেখো আামার কত শাড়ী তোমার কোন  কোনটা চাই শুধু বলো..  আমি চোখ মুখ শক্ত করে বলেছিলাম মামনি এগুলো আমার কিচ্ছু চাইনা আমি শুধু তোমার মুখে হাসি চাই, তোমাকে সুখী দেখতে চাই,,তোমার দীর্ঘায়ু চাই,, 

যতোদিন বেঁচে আছি তোমাকে পাশে চাই আর কিচ্ছু না,,এই যে তোমাকে মুখ ভরে ডাকি এই ডাকটাই আমার জন্যে যথেষ্ট ,,এটা আমার অন্যতম সুখ....আমর রিক্ত সিক্ত হৃদয়ের পূর্নতা,, 

অনুরাগী অভিমানী মামনির  মুখটা  ম্লান হয়ে গিয়েছিলো তবুও  আমার আত্নসম্মান আমাকে প্রশ্রয় দেয় নি .! চরিত্রের এই অংশটুকু বোধ করি আমি আমার জন্মদাত্রী মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছি... 

তবে মামনির আন্তরিকতা এবং  তার প্রকাশ ভঙ্গি অনন্য তিনি সাবলীলভাবে সবকিছু গ্রহন করতে পারেন.. সেমতে প্রকাশ ও করতে পারেন...কদিন আগে এসএমএস পাঠালেন... তুমি আমার সব থেকে প্রিয় সবকিছুর থেকে প্রিয় একজন মানুষ,,তখন ভাবি এই প্রকাশট আামার মায়ের মাঝে খুবই ক্ষীণ ছিলো..তিনি মুখ ফুটে  কিছুই বলতেন না..!. 

 তাই তো আমি সহজেই মামনিকে পড়তে পারি...কিন্তু জন্মদাত্রী মাকে আমি সহজে পড়তে পারতাম না বহুকাল...তার চারপাশে একটা কাঠিন্যে তিনি নিজেই তৈরি করে রাখতেন...

একদিন মায়ের উপর রাগ করে আমি আমার এক নিকটতম প্রতিবেশীকে খুব অভিমানে বলেছিলাম..  জানেন আমার মা আমাকে ভলোবাসে না আর বাসলেও তার  সব সন্তানের চাইতে সবচেয়ে কম ভালোবাসেন,,তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন তোমার এটা কেন মনে হয়..?

আমি বললাম আছে কিছু ব্যপার যা আমি অনুভব করি.. তবে ব্যাখ্যা করতে পারবো না...

তাছাড়া আমার সবকিছুতেই মায়ের কেবল নিষেধাজ্ঞা, কই অন্যদের বেলায় তো এমনটা করেননা...তিনি আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন তোমাকে সমনাসামনি হয়তো সপোর্ট করেন না কিন্তু ভেতরে ভেতরে তোমাকে অনেক ভালোবাসেন...  অন্যদের থেকে বেশী না হলেও কম তো অবশ্যই নয়..  এই যেমন ধরো গতকালের কথাই যদি বলি তুমি প্রথম রান্না করছিলে তাই না..?

আমি কোতূহলী প্রশ্ন করলাম আপনি কিভাবে জানেন.?

তুমি রান্নাঘর থেকে চিৎকার করে বলছিলে মা বেগুনে ঝুল কতোটুকু দিতে হবে..? বেগুনগুলো পানিতে ডুবছে না কেন..? খালাম্মা তখন হাসতে হাসতে বলেছিলো আমার সন্তানদের মাঝে তাসলিমা অনেক সরল এবং নরম মনের মেয়ে.. 

আমি অবিশ্বাস্য সুরে বললাম জানি আপনি মাকে ভালোবাসেন তাই বাড়িয়ে বলছেন..  হয়তো বলেছে   দেখো দুষ্ট টা কত বোকার মতো প্রশ্ন করেছে..ওর জ্বালায় কোথাও গিয়ে শান্তিতে দুদন্ড বসার উপায় নেই,,, 

উনি যেনো একটু বিরক্ত হলেন...

গলার স্বর আরেকটু বাড়িয়ে বললেন আচ্ছা গত পরশু তুমি আচমকা চিৎকার করে ছিলে কেন?

ছোটআপা মেরেছিলো...

 তোমার মা পড়িমরি করে দৌড়ে উঠে গিয়েছিলো..

এটা বলতে বলতে যে আল্লাহ আমার মেয়ের যেনো কিছু না হয়.... বলো, এটা কি গভীর ভালোবাসা নয়...?

আমি বললাম না এটা ভালোবাসা নয় এটা ভয়...

প্রতিবেশী ভ্রু কুঁচকে বললেন কিসের ভয়..?

বাবার ভয়... 

বাবা প্রতিদিন স্কুলে যাবার সময় বলে যান আমাদের দেখে রাখার জন্য..  আর আমার কিছু হলে মাকে একটু বেশি বকা শুনতে হবে তাই... 

তিনি আমার উপর বিরক্ত হলেন,, 

বললেন তুমি বড় হও তখন তুমি বুঝতে পারবে তোমার মা তোমাকে কতটা ভালোবাসেন... এবং ডি এন এ সূত্রে তুমি তোমার মায়ের অনেক কিছু  বহন করছো...!

তাঁরও অনেক বছর পর এক বর্ষনমুখর সন্ধায়..হিমুর সঙ্গে  ইফতার নিয়ে বসেছি..দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ  নেই তারউপর চারদিকে রাস্তাঘাট থৈথৈ পানিতে ভেসে যাচ্ছিলো.. আমি হিমুকে বললাম আমি যাই মায়ের সাথে ইফতার  করবো,, হিমু কিছু  বললোনা,জানে বলেও লাভ নাই...আমি শুনবো না,,শুধু বললো আমি কি সাথে আসবো

.. বললাম তারও দরকর নাই,, মা কে বিব্রত করতে চাইনা...

ঝড় তুফান মাথায় নিয়ে দরজায় নক করতেই দরজা খুলে ভুবন ভুলানো হাসি দিয়ে বললেন আমি জানি আর কেউ  না আসলেও তুই ঠিকই আসবি...

আমি অনেক কষ্টে কান্না গোপন করলাম...

একাকিত্ব আমার কাছে বিলাসিতা হলেও আমার মায়ের কাছে ছিলো ভীষন কষ্টের....! 

আগেও বলেছি বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে আমার দূরত্বটা কমে গিয়েছিলো...  যদিও হিটলার সবসময় সে দূরত্ব টা বহাল রাখার সব ধরনের কলা কৌশল করতো,, বাহিরের মানুষের ষড়যন্ত্র উন্মোচনে আমি যতোটা পটু ছিলাম ভেতরের তথা আপনজনদের ষড়যন্ত্র বুঝতে ততোধিক আনাড়ি ছিলাম,,যাই হোক প্রকৃতির অসংখ্য কৃপায় আমি দিনগুলি স্ব গৌরবে পাড়ি দিতে পেরেছিলাম,, 

এখন পর্যন্ত যাপিত জীবনের সবচাইতে পেরেশানির দিন ছিলো আমার বিয়ের দিন টি... অনেকেই ভাবতে পারেন এ আর আহামরি কি? সবার বিয়ের দিনই তো অনেক টেনশন আর পেরেশানের হয়,, 

বিয়ের দিন সকাল বেলায় হিটলার আমাকে অযৌক্তিক নিষ্ঠুরতম কিছু শর্ত জুড়ে দেয়..যা তৎক্ষনাৎ না মানলে মা কে বিয়ে বাড়ি অর্থাৎ বাসা থেকে আউট করা হবে..  এবং বিয়েতে গন্ডগোল সৃষ্টি করা হবে...!

মায়ের চোখেমুখে ভেসে উঠলো ভয়মিশ্রিত কান্না আর আমি রাগে দুঃখে কষ্টে দিশেহারা হয়ে ভাবছিলাম পাত্রপক্ষের কথা..বিয়ে উপলক্ষে লন্ডন আমেরিকা থেকে হিমুর বড় দু বোন এসেছে তাদের পরিবার নিয়ে...? এংগেজম্যন্টের আংটি পরিয়ে গেছেন তাদের  বরেরা. হিটলারই বিয়ের কাবিন এবং দিনক্ষণ ঠিক করেছে ...শহরে তারা পরিচিত মুখ... অন্তিম মুহূর্তে বিয়ে ভেঙে দিলে বা গন্ডগোল করলে হিমুর মান সম্মান  কোথায় গিয়ে ঠেকবে... আমার বাবার মেয়ে হিসেবে আমার সম্মান টা-ইবা কোথায় দাঁড়াবে... যুক্তিসঙ্গত কোন কারন ছাড়া বিয়ের অন্তিম মুহূর্তে  বিয়েটাই বা কেন ভাঙা হবে..? 


অর্থ বিত্ত নয় সারাজীবন মান সম্মান প্রাধান্য দেয়া আমার সামনে কঠিন এক পরীক্ষা উপনীত হলো..বান্ধবীরা তাড়া দিচ্ছে আমাকে পার্লারে নিয়ে যাবার জন্য...আমি জলভরা চোখে মায়ের দিকে তাকালাম...  মা ফিসফিস করে বললেন পরে যা হবার হবে আগে তুই রেডি হয়ে আয়... দম বন্ধ করা কান্নায় আমি শুধু  বললাম ফিরে এসে যেনো আপনাকে দেখতে পাই... আমাকে ফাঁকি দিয়ে কোথাও যাবেন না দয়া করে.... অসহায় ভাবে মাথা নাড়লেন...  আমি রাজ্যের চিন্তা মাথায় নিয়ে পার্লারে গেলাম,,পরিবারের যেসব আত্মীয় স্বজনের সাথে বিষয়টা শেয়ার করা যেতো তাদের অধিকাংশ কে এমনভাবে দাওয়াত করা হয়েছে যেনো তারা অপমানবোধ করে এবং বিয়েতে না আসে,...!

প্রায় শ খানেক কার্ড বিলি ই করা হয়নি এসব আমি পরে জানতে পারি... 

কিছু বান্ধবী ছাড়া দৃশ্যত আমি নিজের আশেপাশে কাউকে দেখতে পেলাম না... বোনগুলো সেজেগুজে কাঠ পুতুল হয়ে বিয়ে বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে...  আমার সঙ্গে যেনো তাঁদের কোন সংযোগ নেই...বরযাত্রী  এবং বরের বন্ধু গুলো হৈ-হুল্লোড় আনন্দের কোন কমতি হলো না ঢাকা থেকে আসা বোনদের বান্ধবীরা সেটা পুষিয়ে দিয়েছে,, আর আমার বান্ধবীরা নিরব নিশ্চুপ কি জানি তাঁরা কি বুঝে ছিলো...!  আমার তো কাউকে কিছু বলার মতো অবকাশ ছিলো না....

   এ-তো টা মানসিক কষ্ট বা প্রেসার কোন বিয়ের কনে কে পেতে হয়েছে কিনা আমার জানা নেই..  তাও আবার তাঁর আপন লোকজনের কল্যানে....!

বরাবরের মতোই আমি সম্মান প্রাধান্য দেয়া মেয়ে হিসেবে কারো বউ হলাম দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এর মাধ্যমে....মা আর ছোট মামা বর কনের হাত দুটি এক করে আশীর্বাদ স্বরূপ অশ্রু বিসর্জন করলেন... সাথে অভিনেতা হিটলারও তাল মেলালো... বরযাত্রীর দীর্ঘ বহরের সাথে আপন গৃহ ছাড়তে ছাড়তে ভাবছিলাম এই দিনটির কথা কি জীবনে কখনো ভুলতে পারবো...? হিটলারকে  কি কখনো ক্ষমা করতে পারবো ...?

সেদিন থেকে আমি শিখেছিলাম কি করে  বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ ঘটিয়েও মুখে  হাসি ঝুলিয়ে রাখতে হয়....!


তবে মানুষ চাইলেই সব পারে কথাটা চরম মিথ্যা

চাইলেই মানুষ সব পারেনা, কখনোই না! শুধু বুকভরা দীর্ঘশ্বাস মানুষ অনায়াসে ছাড়তে পারে! 

মানুষ চাইলে থেকে যেতে পারেনা, চাইলেই রেখে দিতে পারেনা। মানুষ চাইলেই অনেক কিছু ভুলে থাকতে পারেনা! মানুষ চাইলেই মায়া কাটাতে পারেনা। মানুষ চাইলেই নিজের ইচ্ছায় চলতে পারেনা। মানুষ চাইলেই অতীত ফিরিয়ে আনতে পারেনা...


মানুষ চাইলেই একাকীত্ব দূর করতে পারেনা..মানুষ চাইলেই সবার প্রিয় হতে পারেনা...মানুষ চাইলেই চিৎকার করে কাঁদতে পারে না...মানুষ চাইলেই কিছু যন্ত্রণা/কথা হজম করতে পারেনা...

চলবে...

ছবি ফ্যাক্ট : বিয়ের দিন পুরো অনুষ্ঠানে আমি রাগে টগমগ হয়ে ফুটছিলাম এটা তাঁরই প্রতিচ্ছবি...

Comments

Popular posts from this blog

"সমাজ বদলায় না, বদলায় সমাজের মুখোশ।"

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরো একটি নতুন রাজনৈতিক দল এর আত্মপ্রকাশ।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে "জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি"র(NPP) বিবৃতি